নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বিশ্বাসের হাট ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে কয়েকজন তরুণ-কিশোরকে দেখা গেলেও এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আর সেই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ও অর্থের জোগানদাতারা আড়ালে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত হিসেবে পরিচিত রাজিব ওরফে ‘টক্কনাথ রাজিব’ ওই চক্রের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। একই এলাকার শরীফ বাড়ির বাসিন্দা লিটন শরীফের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক মাস আগে রাজিবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর মাদকসহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজিবের প্রকাশ্য তৎপরতা কিছুটা কমে যায়। এরপর থেকেই কিছু বিপথগামী তরুণ ও কিশোরকে ব্যবহার করে পর্দার আড়াল থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ অভিযোগ করেন, লিটন শরীফসহ কয়েকজন ব্যক্তি এসব তরুণের কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দেন। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া লিটন শরীফের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানকালে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পুরোনো অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। এসব অভিযোগেরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, একসময় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর সঙ্গে যুক্ত রাজিবের সাম্প্রতিক আর্থিক পরিবর্তন নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশ্বাসের হাট, নদীর পাড় ও আশপাশের সুপারি বাগানের কয়েকটি নির্জন স্থানে গভীর রাতে মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসে। কয়েকটি তালাবদ্ধ টিনশেড ঘর এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি তাদের।
সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের বেলায় এসব নির্জন স্থানে অপরিচিত তরুণদের আনাগোনা দেখা যায়। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের নজরদারি এড়াতে সুপারি বাগানের কয়েকটি স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
চরমোনাই এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ‘শায়েখে চরমোনাই’-এর উদ্যোগে একটি বিশেষ মাদকবিরোধী কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।
কমিটির সদস্য বাচ্চু বলেন, এলাকায় মাদক ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার রয়েছেন। তবে কাউকে হাতেনাতে আটক করার উদ্যোগ নেওয়ার আগেই অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী—উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সার্বিক বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিশ্বাসের হাট ও আশপাশের এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে থাকা সদস্যদের পাশাপাশি নেপথ্যে থেকে যারা অর্থ, আশ্রয় কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশ্ন এখন একটাই—বিশ্বাসের হাটে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগের নেপথ্যে আসলে কারা? তদন্তেই মিলতে পারে সেই প্রশ্নের উত্তর।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad