অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান, দীর্ঘ সময় তদন্ত, তিনজনকে থানায় নিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ—সবকিছুর পরও কোনো মামলা নয়, কোনো গ্রেপ্তার নয়, নেই পুলিশের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও।
ঘটনার শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি, অভিযানের ধরন এবং পরবর্তী কার্যক্রম দেখে স্থানীয়রা ধারণা করেছিলেন, অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা তদন্ত শেষে যদি কোনো অপরাধের প্রমাণই না মেলে, তাহলে তিনজনকে থানায় নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার যৌক্তিকতা কী? আর যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলো হলো—
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৮২ ধারায় সরকারি কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা এবং ২১১ ধারায় জেনে-শুনে মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অভিযোগটি যদি অসত্য প্রমাণিত হয়, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে কি না—এ প্রশ্নও উঠছে।
কাউনিয়া থানা পুলিশের উচিত পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া এবং তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা জনসমক্ষে তুলে ধরা। কারণ অপরাধ দমন যেমন পুলিশের দায়িত্ব, তেমনি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হয়েছে কি না কিংবা মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—সেটিও জনগণ জানার অধিকার রাখে।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনার রহস্য ও জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad