প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বন্যায় প্রতি বছর হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারায়, তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। আশ্রয়ের শেষ ভরসা সাইক্লোন শেল্টার হলেও সেখানেও অবকাঠামোগত সংকট ও প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন উপকূলের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। কোথাও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, কোথাও নষ্ট টয়লেট, আবার কোথাও আলো-বাতাসেরও সংকট। ফলে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঝড়-বন্যা এলেই আতঙ্কে থাকি। আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে দেখি পানির কল নষ্ট, বাথরুম ব্যবহার করা যায় না। আলো-বাতাসেরও অভাব। আমাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।”
চরবাড়িয়ার লামছরি গ্রামের আবদুর রহমান বলেন, “বন্যার পানিতে ঘরের চুলা ডুবে যায়। কাছাকাছি কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পানির মধ্যেই দিন কাটাতে হয়।”
শায়েস্তাবাদের মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগম বলেন, “ত্রাণের কথা শুনি, কিন্তু চরের মানুষ হিসেবে সময়মতো কিছুই পাই না। আশ্রয়কেন্দ্রও অনেক দূরে, নারীদের নিরাপত্তারও ব্যবস্থা নেই।”
বরিশালে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক মাত্র ৬০ জন
দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া ও উদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)। তবে বরিশাল জেলায় এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের জনবল সংকট রয়েছে।
সিপিপির তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে মোট ৩২ হাজার ৭০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। এর মধ্যে ভোলায় ১৩ হাজার ৮৬০, পটুয়াখালীতে ৮ হাজার ৭০০, বরগুনায় ৮ হাজার ৪৪০ এবং পিরোজপুরে ১ হাজার ৭০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
অথচ বরিশাল জেলার নদীবেষ্টিত ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলার জন্য নিবন্ধিত সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা মাত্র ৬০ জন, যা স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সিপিপি বরিশাল জেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহাগ হোসেন বলেন, “বর্তমানে বরিশাল জেলায় তালিকাভুক্ত স্বেচ্ছাসেবক মাত্র ৬০ জন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
প্রস্তুতির দাবি প্রশাসনের
বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিত কুমার সরকার বলেন, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ মজুত রয়েছে। দুর্যোগকালে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. সোহরাব হোসেন জানান, পুরো বিভাগে সাড়ে ৩ হাজার সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৪৭০ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “যেখানে স্বেচ্ছাসেবকের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে পার্শ্ববর্তী ইউনিটের সদস্যদের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছে।”
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad