দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী আগস্টে চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বরিশালের বহুল আলোচিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত না করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা ও বিতর্ক।
গত সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার নির্মাণাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, আগস্টের মধ্যেই হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে এবং প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তবে এই সফরে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার কিংবা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন-কে দৃশ্যমানভাবে সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প পরিদর্শন হলেও তাকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালটি দ্রুত চালু হওয়াকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রায় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আমানতগঞ্জ এলাকায় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি প্রায় সাত বছর পিছিয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ কিছু কারিগরি কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
হাসপাতালটি চালু করতে প্রায় ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং শতাধিক নার্সের প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “আগস্টের মধ্যে অন্তত বহির্বিভাগ চালুর চেষ্টা চলছে। চলতি মাসেই সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল শাখার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত না করলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের সফলতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে এগোলেও হাসপাতালটি ঘিরে সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad