১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কিশোর গ্যাংয়ের ত্রিভুজ প্রেমে প্রাণ গেল ছাত্রীর

সাভারে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ত্রিভুজ প্রেমের ফাঁদে পরে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন আইচানোয়াদ্দা এলাকার লিটল স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা আক্তার ওরফে রাইসা (১৬)। ২০২২ সালের ২৭ জুন রাতে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চার বন্ধু মিলে নির্মমভাবে খুন করেছে।

পুলিশ পরে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে একে একে গ্রেফতার হয় চার আসামি। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা জেলা। আগামি সপ্তাহে আদালতে দোষীপত্র (আসামির বয়স ১৮ বছরের কম বলে) জমা দেওয়া হবে। সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিআইডি তদন্তে উঠে এসেছে হত্যার মূল পরিকল্পনায় ছিল সুমনার কথিত প্রেমিক আশিকুর রহমান ওরফে আশিক সরদার (১৭)। অন্য আসামিরা হলো মিজানুর রহমান (১৭), মো. সাকিব (১৭) এবং মো. রাকিব (১৭)।

সিআইডি জানিয়েছে, ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সুমনার খুনিরা পরিকল্পিত এবং নৃশংসভাবে তাকে খুন করেছে। মূল পরিকল্পনাকারী আশিক সাভারের নিউ মার্কেট এলাকায় ভাসমানভাবে পান সিগারেট বিক্রি করত। আশিকের ধারণা ছিল সুমনার সঙ্গে অন্য ছেলের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া আশিকের বন্ধু সাকিবের সঙ্গেও সুমনার প্রেম ছিল। এর জেরেই তাকে হত্যা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্য আসামিরা ভবঘুরে ও বখাটে। তাদের মধ্যে আশিক ও রাকিব কারাগারে এবং অন্যরা জামিনে মুক্ত আছে। আগামী সপ্তাহে ক্লুলেস এ হত্যা মামলার দোষীপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার সুমনা আক্তার সাভারের আইচানোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা সুমন হাওলাদারের বড় মেয়ে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। সুমন হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। অনেক কষ্টে মেয়েটাকে পড়ালেখা করাচ্ছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৭ জুন স্থানীয়রা সাভার মডেল থানাধীন শিমুলতলায় এক কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখেন। তারা তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা তার পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় ২৯ জুন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পাবেল মোল্লা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সুমনা হত্যার ক্লু উদঘাটনের পর প্রথমে আশিক এবং পরে মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাকিব এবং রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে সুমনা আক্তারের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, সুমনার সঙ্গে সাকিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে বিবাদের ফাঁকে সাকিবের বন্ধু আশিকের সঙ্গে সুমনার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু আশিক সন্দেহ করত সুমনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি আশিক তার বন্ধু সাকিব, মিজান ও রাকিবকে জানায়। এতে সাকিবও ক্ষিপ্ত হয়।

ঘটনার দিন সাভারের রাজ্জাক প্লাজা মার্কেটের সামনে চার বন্ধু (আশিক, মিজান, সাকিব এবং রাকিব) মিলে সুমনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। আশিক সুমনাকে ফোন করে মাফ চাইবে বলে দেখা করতে বলে। সন্ধ্যায় সুমনা বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আশিকের সঙ্গে দেখা করে। আশিক ও তার বন্ধুরা তখন সুমনাকে ফুসলে শিমুলতলার অ্যাসেড আবাসিক স্কুলের গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা সুমনাকে প্রথমে চড়-থাপ্পড় মারে। একপর্যায়ে আশিক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সুমনার পেট, বুক, হাত এবং গলায় আঘাত করে।

এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার চারজনেরই বয়স ১৮ বছরের কম। তাই, আদালতে তাদের শিশু হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। আদালতে তারা এ হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।