০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গরুর চামড়ায় লেগে থাকা মাংসও ভাগ্য খুলে দেয়

সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই মাংস কিনে খেতে পারেন না। কোরবানির এ সময়টায় সামর্থ্যবানদের দিকেই তাকিয়ে থাকেন তারা।

সেই তালিকা থেকেও আবার বাদ যান কেউ কেউ। তবে ইচ্ছা থাকায় এখানেও যে উপায় বের করা যায় তার উদাহরণ মিজান-রিপনরা।

যাদের ভাগ্য খুলে দেয় পশুর চামড়ায় লেগে থাকা মাংস।

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে বরিশাল নগরের হাটখোলা এলাকার বাচ্চু মিয়ার চামড়ার আড়তে গিয়ে দেখা গেছে মিজান-রিপনের মতো অন্তত ৮-১০ জন গরুর চামড়ায় লেগে থাকা মাংস ছাড়ানোর কাজ করছেন।

যাদের ভাগ্য খুলে দেয় পশুর চামড়ায় লেগে থাকা মাংস।

সোমবার (১৭ জুন) বিকেলে বরিশাল নগরের হাটখোলা এলাকার বাচ্চু মিয়ার চামড়ার আড়তে গিয়ে দেখা গেছে মিজান-রিপনের মতো অন্তত ৮-১০ জন গরুর চামড়ায় লেগে থাকা মাংস ছাড়ানোর কাজ করছেন।

হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সভাপতি বাচ্চু মিয়ার কাছে মিজান-রিপনদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরা আমরা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো শ্রমিক নন। তারা নিজ থেকেই পশুর চামড়ায় লেগে থাকা পাতলা মাংস, লেজের অংশ থেকে মাংস ছাড়িয়ে নিচ্ছেন।

যা তারা খাওয়ার জন্য নিয়ে যান। সামর্থ্য না থাকায় কোরবানি দেওয়া বা গরুর মাংস কিনে খাওয়ার মতো সুযোগ নেই বিধায় এখানে এসে এ কাজটি করছেন তারা।

মাংস ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত নগরের পোর্টরোডের বাসিন্দা ও দিনমজুর মিজানুর রহমান জানান, মাত্র সাড়ে তিন থেকে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বেশ কয়েকটি গরুর চামড়ার সাথে লেগে থাকা মাংস ছাড়িয়েছেন। সবমিলিয়ে ১০ কেজির মতো সংগ্রহ করেছেন তিনি, সময়ের সাথে সাথে আরও মাংস হবে।

মিজান বলেন, শ্রমের বাজারে যে টাকা উপার্জন করি তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে কোনোভাবে এই শহরে থাকি। সেখানে গরুর মাংস কিনে খাওয়া অসম্ভব। তাই চামড়ার সাথে লেগে থাকা মাংস ছাড়িয়ে বাসায় নিয়ে যাবো রান্না করে খাওয়ার জন্য। আর অনেক বেশি সংগ্রহ করতে পারলে মানুষের বাসার ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখবো, যাতে পরেও খেতে পারি। মাংসের ধরণ পাতলা হলেও রান্না করে খেতে খুব স্বাদের হয়। গত কয়েকবছর ধরে খেয়ে তো তাই মনে হয়।

রিপন নামে অপর শ্রমজীবী বলেন, বাচ্চু কাকার এখানে প্রায় ৮-১০ জন আছি, যারা গরুর চামড়ার সাথে লেগে থাকা মাংস ছাড়াচ্ছি। তারা (প্রতিষ্ঠানের লোকজন) কোনো বাধা দেয় না, শুধু বলে মাংস ছাড়াতে গিয়ে যেন চামড়ার ক্ষতি না করি।

কয়েক বছর ধরে কোরবানিতে এ কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ৮০০ টাকায় গরুর মাংস কিনে খাওয়া দুষ্কর। সেখানে একটু সময় দিয়ে চামড়া থেকে মাংস ছাড়ানোর কাজটি সহজ। ভাগ্য ভালো হলে নতুন মৌসুমি কসাইয়ের হাতে ছেলা চামড়া পাই। যে চামড়ায় মাংসের পুরু স্তর পাওয়া যায়, ফলে সেই চামড়ায় বেশি মাংস পাওয়া যায়। আবার অনেক চামড়ার সাথে লেজও থাকে, সেখানে বেশ ভালো পরিমাণে মাংস পাওয়া যায়।

ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।