১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মৌসুমি ফলের দাম আকাশ ছোঁয়া

মো. বাবুল গত ২৫ বছর ধরে ভোলার লালমোহন পৌরসভার চৌরাস্তার মোড়ে ফলের ব্যবসা করছেন তিনি। ফল বিক্রি করতে গিয়ে এ বছরের মতো আর কখনো হিমশিম খাননি তিনি। বাবুলের ফলের দোকানে সব ধরনেরই ফল রয়েছে। তবে মৌসুম চলায় এখন ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় আম-লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল।

ফল বিক্রেতা মো. বাবুল বলেন, ২৫ বছরের মতো ফল বিক্রি করছি। তবে এ বছরের মতো এত দাম কখনো দেখিনি। এবার মৌসুমি ফলগুলোর দামও অনেক বেশি। তবুও ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে দোকানে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি মৌসুমি ফল আম ও লিচু তুলেছি। লিচুর দাম গত বছরের তুলনায় আকাশ ছোঁয়া। গত কয়েকদিন আগেও একটি লিচু ৬ টাকা করে বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানেও একটি লিচু সাড়ে ৪ টাকার মতো করে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ফল আমও বিক্রি করছি। এই ফলের দামও এখন দ্বিগুণ। গত বছর জাতভেদে যে আম এক কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করেছি। তা এখন ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমি ফলের এমন অস্বাভাবিক দামের কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফল কিনতে পারছেন না। যেই ক্রেতা আগের বছর ৫ কেজি আম কিনতেন, তিনি এ বছর ২ থেকে ৩ কেজি কিনছেন। আবার যিনি গত বছর ১০০ লিচু কিনেছেন, তিনি এবার ৫০টি কিনছেন। অনেকে ক্রেতা তো আবার দাম শুনে কোনো কথা না বলেই চলে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এ বছরের ফলের দাম বাড়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম চাহিদার তুলনায় কম ফল উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া আমরা ফলগুলো রাজশাহী, যশোর ও দিনাজপুর থেকে ক্রয় করি। এবার পরিবহন খরচও বেড়েছে, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমরা বেশি দামে ফল বিক্রি করছি। বেশি দামে ফল বিক্রি করলেও আমাদের তেমন লাভ হয় না। এক কেজি আম বিক্রি করলে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকার মতো লাভ হয়। আর ১০০ লিচু বিক্রি করলে লাভ হয় ২০ টাকার মতো।

কেবল বাবুলই নয়, ওনার মতো লালমোহন পৌরসভার বিভিন্নস্থানে বর্তমানে মৌসুমি ও স্থায়ী ফল ব্যবসায়ী আছেন অন্তত ৩০ জন। এসব ফল বিক্রেতাদের সবাইকেই কেনার খরচ বেশি হওয়ায় উচ্চ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে মৌসুমি ফল খাওয়ার স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই অনেকের। তাদের মধ্যে এমনই একজন মো. নাগর। তিনি লালমোহন পৌরসভায় প্রায় ১০ বছর ধরে রিকশা চালান। তার দৈনিক আয় পাঁচশত টাকা। স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়েসহ তার মোট চার সদস্যের সংসার। দৈনিক যা আয় হয়, তা সংসারের গুরুত্বপূর্ণ খাতেই ব্যয় হয়ে যায়।

রিকশাচালক মো. নাগর বলেন, সারা দিন কষ্ট করে রিকশা চালাই। এতে করে দিনশেষে আয় হয় পাঁচশত টাকা। এ আয় দিয়ে কোনোরকমে কেবল সংসার চলে। এখান থেকে বাড়তি খরচের কোনো পথ নেই। তাই ফল কিনবো কীভাবে। আগে চাইলেও মৌসুমি ফলগুলো কেনা যেত। তবে এখন এসব ফল আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অপচয়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমি ফলগুলোও এখন হয়ে গেছে কেবল বড়লোকদের খাবার।

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, এ বছর মৌসুমের সময়ও ফলের দাম অনেক বেশি। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের নাগালের একেবারেই বাহিরে। আমি যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোর পর ফল কেনা খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও সন্তানদের আবদারে কয়েকদফায় তিন কেজি আম কিনেছি। লিচুর দাম এতোই বেশি তা আর কেনার সাহস হয়নি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে তেমন কোনো ফল উৎপাদন হয় না। যার জন্য বাজারের ব্যবসায়ীরা বাইরের জেলাগুলো থেকে ফল এনে বিক্রি করেন। এ ছাড়া ফলের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জন্যই বর্তমানে বাজারে মৌসুমি ফল থাকলেও দাম কিছুটা বেশি। তবে আমরা লালমোহনের কৃষকদের বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদনের জন্য উৎসাহী করছি। উপজেলায় ফল উৎপাদন বাড়লে বাজারেও দাম কমে যাবে বলে মনে করছি।

ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।