
লালামোহন প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জিহাদের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর লালমোহন থানা পুলিশ ও ভোলা র্যাবের যৌথ অভিযানে পালিয়ে যাওয়ার সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ভোলা ইলিশা ঘাট থেকে একটি লঞ্চে জিহাদকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নিহত রুনা (১৯) লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর গ্রামের বাসু মুন্সিবাড়ির হাফিজুর রহমানের মেয়ে। প্রায় সাত মাস আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার বিয়ে হয় মামাতো ভাই জিহাদের সঙ্গে। জিহাদ একই ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের রফিকের ছেলে এবং চট্টগ্রামে একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর রুনাকে নিজ বাড়িতে না নেওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। দাম্পত্য কলহের কারণে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে রুনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
বুধবার বিকেলে রুনার মা রেহানা বেগম ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে যান। এ সময় রুনার বাবা গজারিয়া বাজারে তার পানের দোকানে ছিলেন। এই সুযোগে বিকাল ৪টার দিকে জিহাদ চট্টগ্রাম যাবে বলে নিজের ঘর থেকে বের হয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান।
সেখানে রুনার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জিহাদ তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাশের ঘরে থাকা রুনার চাচি নুরজাহান ঘরে ঢুকে রুনাকে কম্বলের নিচে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার বুকের ওপর বালিশ রাখা ছিল এবং মুখে লালা বের হচ্ছিল। এ সময় তিনি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জিহাদ পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। পরে জিহাদকে ফোন করা হলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
খবর পেয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান।
ওসি মো. অলিউল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভোলা ইলিশা ঘাট থেকে জিহাদকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনার বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।