বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: বরিশালে বেড়াতে এসে সন্ধ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া কিশোর জুনায়েদ আলী জুমজুম (১৫)–এর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার সকাল থেকে পুনরায় শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে ডুবুরি দল নদী থেকে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
নিহত জুনায়েদ আলী জুমজুম ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা আহমেদ সাকিব শশী ও হুমায়রা সুলতানা দম্পতির ছেলে। তিনি পরিবারসহ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নেহাল মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জুনায়েদ আলী তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর এলাকার সন্ধ্যা নদীর ‘লাস্ট ঘাট’ নামক খেয়াঘাটে গোসল করতে নামেন। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতের ঘূর্ণিতে পড়ে দু’জনই তলিয়ে যেতে থাকেন। ছোট ভাইয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে জুনায়েদ আলী জুমজুম স্রোতের টানে নদীতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে দুপুর ২টার দিকে বরিশাল নৌ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার সনাতের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ডুবুরি দল অভিযানে যোগ দেয়। তবে নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ও আলো স্বল্পতার কারণে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও কিশোরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রোববার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু হলে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ডুবুরি দল নদী থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে মরদেহটি আগরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে আগরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের মাধ্যমে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮, মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com
© 2026 বরিশাল সংবাদ | Barisal Sangbad