
দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আজ (তারিখ) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিনের তুলনায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার এলাকার সংখ্যা কিছুটা কমেছে এবং তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। এদিকে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হতে পারে। এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। তবে এর বিস্তৃতি দিনভিত্তিক কমবেশি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর সঙ্গে আটটি জেলা—গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও শৈত্যপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ মিলিয়ে ১৬টি জেলা, সব মিলিয়ে ২৪ জেলায় শীতের প্রকোপ অনুভূত হচ্ছে।
গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। এর মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, যা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর শৈত্যপ্রবাহকে তাপমাত্রার ভিত্তিতে ভাগ করেছে—
৮.১–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস: মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
৬.১–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ
৪.১–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস: তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে: অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
শাহীনুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার কিছুটা কমবেশি হতে পারে। নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে আবার কিছু জেলা বাদ পড়তে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত এগোচ্ছে না এবং এটি এক সপ্তাহের বেশি সময় পর্যন্ত চলতে পারে।
উত্তরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০–১২ কিলোমিটার। সকাল ৯টার পরেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ভোর থেকে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।”