


পটুয়াখালী প্রতিনিধি : নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; বরং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা কোনো প্রার্থী বা পক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিতে কিংবা প্রস্তাব দিতে পারবেন না। তারা কেবল নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে পারবেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার জানান, সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়, ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সামনে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই পথেই এগোচ্ছি এবং এটি সফল হবে।”
পটুয়াখালী সফর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আর ১২ দিন বাকি থাকলেও প্রস্তুতি দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আশা করছি, পটুয়াখালীতে একটি ভালো ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট ভোটের শতাংশের ওপর নির্ভর করে না। কমিশনের প্রত্যাশা শতভাগ ভোটার যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচনকালে যে পরিবেশ সাধারণত দেখা যায়, তার তুলনায় এবার পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত। আমরা চাই না নির্বাচনের কারণে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কিছু উত্তেজনা থাকতে পারে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে থাকলে কোনো সমস্যা হবে না। নির্বাচনের পর আমাদের সবাইকে সমাজে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।”
বিলবোর্ড সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, বিলবোর্ডে রঙিন পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলো সাদাকালো করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।