
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫১ কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থায়ী
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আইনি লড়াইয়ের পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৫১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শূন্যপদে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) করপোরেশনের প্রশাসক ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এক আদেশে তাঁদের স্থায়ীকরণ অনুমোদন দেন।
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সেরনিয়াবাতের শাসনামলে ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ১২১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় ওই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে ওই বছরই ৯৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আদালতের দ্বারস্থ হন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে আদালতের রায়ে তাঁদের পুনর্বহাল করা হয়। এরপর ২০১৫ সালে তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামাল ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে এতদিন ধরে তাঁরা স্থায়ী নিয়োগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
বিসিসি সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মামলাকারীদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, আবার কেউ কাজে যোগদান করেননি। বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ৬১ জন। করপোরেশনের বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো ও শূন্যপদ বিবেচনায় যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মধ্য থেকে ৫১ জনকে স্থায়ী করা হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলার শিকার ছিলাম। বিভিন্ন সময়ে দাবি উত্থাপন করলেও স্থায়ী হতে পারিনি। অবশেষে বর্তমান প্রশাসক আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে খুশির জোয়ার বইছে।”
এ বিষয়ে বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার রোহান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লিখিতভাবে স্থায়ীকরণের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসক সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ৫১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শূন্যপদে স্থায়ীকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।