
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও প্রকাশ্য সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ সভা শেষে বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকনকে কার্যত পাশ কাটিয়ে অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন আলম খান পান্নাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই আইনজীবীরা সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চেয়ার বের করে আনলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির মূল ভবনে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন মন্টু। সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আদালতের পিপি ও আইনজীবী ফোরামের সভাপতি নাজিম উদ্দীন আলম খান পান্না, মোখলেছুর রহমান বাচ্চু, আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ইমন, সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মাসউদসহ সিনিয়র ও জুনিয়র পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক আইনজীবী।
সভা শেষে ঘোষণা দেওয়া হয়, বুধবার থেকেই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাজিম উদ্দীন আলম খান পান্না। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য তাকে নির্বাচন সংক্রান্ত এডহক কমিটির আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাচন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এই ঘোষণার পরপরই সমিতির বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকনের কক্ষে আইনজীবীরা তালা ঝুলিয়ে দেন এবং কক্ষ থেকে চেয়ার বের করে আনেন। প্রকাশ্যে এমন ঘটনার ফলে আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনজীবীদের মধ্যেই বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকন দাবি করেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। কোনো বিরোধ নেই।’ তবে ঘটনাস্থলের দৃশ্য ও আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ঘরানার আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা নিয়ে গড়িমসি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে একাংশ আইনজীবী বর্তমান সভাপতির ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে অপসারণ করে এডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূত্রমতে, ‘সাধারণ আইনজীবী’ ব্যানারে বিএনপি ঘরানার একটি বড় অংশ এই সভা ও ঘোষণার মাধ্যমে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। এতে আইনজীবী সমিতির অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
আইনজীবী সমাজের একটি অংশ বলছে, আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রকাশ্য বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আইন পেশার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।