

বরিশাল নগরীর পোর্টরোড এলাকায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল চিল–কে কেন্দ্র করে হানিট্র্যাপসহ নানা অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন হোটেলটির মালিক আলামিন, যিনি এলাকায় ‘পট আলামিন’ নামে পরিচিত।
এলাকাবাসী জানান, আলামিন নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার ৭ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বাড়ির বাসিন্দা। তাদের দাবি, আবাসিক হোটেল পরিচালনার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, যা এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাম ও দূরবর্তী এলাকার তরুণীদের কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে আনা হয়। পরে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ এতে রাজি না হলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। এমনকি পারিবারিক সদস্যদের দিয়েও হোটেল পরিচালনা ও এসব কর্মকাণ্ড করানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে আলোচিত বিভিন্ন হানিট্র্যাপ চক্রের ঘটনার সঙ্গে হোটেল চিলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। অনেকের দাবি, এসব চক্রের কার্যক্রম পরিচালনায় হোটেলটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ ও প্রভাবের কারণে আলামিন দীর্ঘদিন ধরে আইনের ফাঁক গলে চলাফেরা করছেন। তারা বলেন, তার প্রভাব এতটাই বেশি যে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পলাশপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ভূমি অফিস থেকে পোর্টরোড ব্রিজ পর্যন্ত চলাচলের সময় হোটেল সংশ্লিষ্ট লোকজনের কারণে মাঝেমধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের সামনে একে অপরকে উদ্দেশ করে অশালীন প্রস্তাব ও মন্তব্য করা হয়।
আরেক পথচারী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটক করলেও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। তার মতে, এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলো দ্রুত সিলগালা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে এর আগেও ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড দমনে কোতয়ালী পুলিশ নিয়মিত ও ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর পোর্টরোড এলাকার হোটেল পপুলার ও হোটেল চিলে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০ জন নারী-পুরুষকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় হোটেল চিল থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলামিনের দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বরিশাল নগরীর সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।
হেড অফিস: ৩৯ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
বরিশাল অফিস: হাবিব ভবন, ১১৮ সদর রোড, বরিশাল।
মোবাইল : ০১৭৪২-২৮০৪৯৮,
মেইল: dailybarishalsangbad@gmail.com