
বরিশাল সদর উপজেলার একটি মাদরাসা ও এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নামাজ আদায়ে মসজিদে অবস্থান করায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মহাবাজ এলাকায় অবস্থিত মাদিনাতুল উলুম নূরানি ও হাফিজিয়া মাদরাসা এবং সংলগ্ন এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, মাগরিবের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মাদরাসার ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পাশ্ববর্তী একটি মসজিদে যান। তাদের অনুপস্থিতির সুযোগেই হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো প্রতিষ্ঠানটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।
মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, “নামাজ শেষে আগুনের খবর পেয়ে এসে দেখি মাদরাসা ও এতিমখানা পুরোপুরি আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। বইপত্র, আসবাবপত্রসহ সব মালামাল ছাই হয়ে গেছে। তবে আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।”
খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে যদি শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় অবস্থান করতেন, তবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।