


পটুয়াখালী সদর প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীক পেয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।
এছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী পেয়েছেন ‘হাতপাখা’ প্রতীক এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শাহআলম পেয়েছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক।
এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নুরুল হক নুর। তবে জনপ্রিয় নেতা হাসান মামুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জোট প্রার্থী নুরুল হক নুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে পরিচিতি পেলেও, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন।
নুরকে জোটের প্রার্থী ঘোষণার পরও দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার মূলধারার সিংহভাগ বিএনপির নেতাকর্মী হাসান মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
এমনকি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও নেতাকর্মীরা হাসান মামুনের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার দশমিনায় এক বক্তব্যে নুরুল হক নুর বলেন,
“আমি কোনো প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ মনে করি না।”
অন্যদিকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে হাসান মামুন বলেন,
“আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। এলাকার সাধারণ মানুষের চাপের কারণে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোটগ্রহণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমার বিশ্বাস, জালিম ও জুলুমকারীদের প্রত্যাখ্যান করে নিরাপদ দশমিনা-গলাচিপা গড়তে মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করবেন।”
উল্লেখ্য, এর আগে ১৭ জানুয়ারি নুরুল হক নুরের প্রতি অসহযোগিতার অভিযোগে পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।