


স্বামীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ইউপি সদস্যের বাড়িতে দুই নারীর অবস্থান
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় স্বামীর স্বীকৃতি ও সন্তানদের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে দুই নারী তাদের সন্তানসহ এক ইউপি সদস্যের বসতঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হলেন রনগোপালদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল।
ভুক্তভোগী পপি বেগম ও মিম দাবি করেন, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কাবিননামা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে নওফেল তাদের বিয়ে করেন। পপি বেগম ঢাকার কালীয়াকৈর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে এবং মিম বরিশাল জেলার কদমতলী থানার মৃত ছাদেল হাওলাদারের মেয়ে।
তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে নওফেল তাদের বাবার বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রেখে সংসার করেছেন। তবে প্রায় এক বছর ধরে তিনি তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছেন না। এ অবস্থায় গত রোববার (১১ জানুয়ারি) তারা সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন।
এ সময় পপি বেগম তার তিন বছরের কন্যা নওরিন এবং মিম তার তিন বছরের পুত্র সন্তানকে সঙ্গে আনেন। বাড়িতে এসে তারা জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে নওফেল গলাচিপা উপজেলার ‘লামিয়া’ নামের এক নারীকে স্ত্রী হিসেবে সংসারে রেখেছেন।
পপি ও মিমের অভিযোগ, বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে নওফেল তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভুক্তভোগী নারীরা আরও অভিযোগ করেন, নওফেল একাধিক বিয়ে ও পরকীয়ার মাধ্যমে নারীদের নানা ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন এবং এর আগেও বহু নারীকে বিয়ে ও তালাক দিয়েছেন।
তারা বলেন, “আমাদের গর্ভে তার দুটি সন্তান জন্মেছে। সন্তানেরা বড় হলে বাবার পরিচয় কোথায় পাবে? আমরা স্বামী ও সন্তানের পিতার স্বীকৃতি চাই। তা না পেলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব।”
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান নওফেল বলেন, “এটি একটি পারিবারিক বিষয়। আমরা পারিবারিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা করছি।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের বাসায় রাখার ব্যবস্থা করে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।