ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বরিশাল নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নুরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের শাসনামলে নগরীর সাবেক মেয়র খোকন আবদুল্লাহর আস্থাভাজন হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। নির্বাচনের সময় কেন্দ্র দখল, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন তারা।
ছাত্রদলের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নুরুল ইসলাম সাধারণ মানুষের বিপুল পরিমাণ জমি অবৈধভাবে দখল করেছেন। একসময় রুটির কারখানার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্ষমতার দাপটে দুর্নীতির মাধ্যমে অল্প সময়েই কোটিপতি বনে যান তিনি। শুধু তাই নয়, বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের সামনের সারির সহযোগী।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সময় নুরুল ইসলামের ওয়ার্ডে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সভা-সমাবেশ করা তো দূরের কথা, নিজ নিজ বাড়িতেও নিরাপদে থাকতে পারেননি। সেই ব্যক্তি এখন রাজনৈতিক ভোল পাল্টে আত্মরক্ষার জন্য বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন যা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, “আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম কবে বা কীভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেন্দ্রীয়ভাবে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের দলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আত্মরক্ষা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে কাউকে দলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
একই সুরে কথা বলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া। তিনি বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আদর্শে বিশ্বাসী যে কেউ দলে আসতে পারে, তবে অবশ্যই দলীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে। নুরুল ইসলাম একজন বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা তাকে দলে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অনেকে বলছেন কেবলমাত্র ২৭ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী খরচ যোগাতে বিতর্কিত এই নুরুল ইসলামকে বিএনপিতে জায়গা দিয়েছেন মজিবুর রহমান সারোয়ার।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা দলীয় শৃঙ্খলা ও ত্যাগী কর্মীদের মনোবল দুর্বল করতে পারে। তৃণমূলের ক্ষোভ উপেক্ষা করলে এর নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে পড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা।