
রাজনৈতিক জনসভায় আইনজীবীদের নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত খবর সম্মেলনে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, বক্তব্যের সময় “অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অসাবধানতাবশত” এমন মন্তব্য তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে, যার জন্য তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন।
লিখিত বক্তব্যে মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, “গত ৫ নভেম্বর বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের একটি অনুষ্ঠানে আমি অংশগ্রহণ করি। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে অনিচ্ছাকৃতভাবে শব্দচয়নে ভুলের কারণে আমি আইনজীবী সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি মন্তব্য করে ফেলি, যা পরবর্তীতে আমার কাছে অনুতাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি উপলব্ধি করেছি—এটি আমার পক্ষ থেকে একটি ভুল ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আইনজীবী পেশাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। বাংলাদেশের আইন-আদালত ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য। আমার বক্তব্যে কারও মনে কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি সমস্ত আইনজীবী সম্প্রদায়ের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
সম্প্রতি বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের এক জনসভায় মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বক্তব্য দেন। সেই বক্তৃতার একটি অংশ সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে আইনজীবীদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বরিশাল প্রেস ক্লাবে খবর সম্মেলন করে জেলা আইনজীবী সমিতি ফরহাদের বক্তব্যের নিন্দা জানায় এবং তাকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করে।
সেদিন সন্ধ্যায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের অনুসারীরা।
বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার পর দিনই সাংবাদিকদের সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ।
তিনি জানান, তার বক্তব্যে কারও অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে আরও সতর্ক থাকবেন।